
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
তারেক রহমান
তারেক রহমান (জন্ম: ২০ নভেম্বর ১৯৬৭) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এর পূর্বে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষাজীবন
শৈশবকাল থেকেই তারেক রহমান বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও জাতীয় রাজনীতির ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী। ১৯৭১ সালের মার্চে পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লে মা বেগম খালেদা জিয়া ও ছোট ভাইসহ তিনি পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাতে বন্দি হন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের দিনে তাঁরা মুক্ত হন; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ যুদ্ধবন্দীদের একজন। তিনি বিএএফ শাহীন কলেজে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও পাশ্চাত্য দর্শনের প্রখ্যাত চিন্তাবিদদের তত্ত্ব গভীরভাবে অনুধাবন করেন। ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি প্রতিবাদ জানান এবং সামরিক জান্তার নজরদারিতে পড়েন।
রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও তৃণমূল সংস্কার
১৯৮৮ সালে তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় তৃণমূল পর্যায় থেকে বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করেন এবং এরশাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে তিনি দেশব্যাপী অবিরাম প্রচার চালিয়ে দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৩ সালে তিনি বগুড়ায় সরাসরি গণতান্ত্রিক গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ কাউন্সিল নির্বাচন প্রবর্তন করেন, যা দলীয় গণতন্ত্রায়নের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নিযুক্ত হন। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী ঐতিহাসিক 'তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন' পরিচালনা করে ১৮ হাজারেরও বেশি স্থানীয় নেতার সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন। তিনি কৃষিভর্তুকি, ছাত্রীদের উপবৃত্তি ও যুব কর্মসংস্থান নীতিমালা বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা রাখেন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি গ্রেফতার ও অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় কারারুদ্ধ হওয়ার পর তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের যুগান্তকারী আন্দোলনে দেশনেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যক্তিগত জীবন
১৯৯৪ সালে তিনি সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা ডা. জুবাইদা রহমানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ডা. জুবাইদা রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত এবং লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে কার্ডিওলজিতে উচ্চতর ডিগ্রিধারী একজন প্রথিতযশা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁদের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান লন্ডনে আইন পেশায় নিয়োজিত।